Posted by : Md:Joy Chowdhury Oct 1, 2014

আজ অনেক আগের একটি সত্য গল্প। আমেরিকার সিভিল ওয়ারের ২০ বছর আগের ঘটনা। জ্যাকব কুলি নামের একজন মার্কিন ব্যক্তি তার ছেলের জন্য একটি সিন্দুক তৈরি করতে চাইলেন। জ্যাকব ছিলেন বেশ ধনী ব্যক্তি। তার অনেকগুলো দাস ছিল। তিনি তার এফ্রো-আমেরিকান দাস হোসিয়াকে নির্দেশ দিলেন সিন্দুকটি তৈরি করার। হোসিয়া কাঠ খোদাই করে সিন্দুক বানালেন। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে জ্যাকবের সেটি পছন্দ হয় নি। তিনি তার দাসকে পিটিয়ে মেরে ফেললেন। জ্যাকবের অন্যান্য দাস অর্থাৎ হোসিয়াহর বন্ধুরা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তারা সিন্দুকের ভেতরের একটি ড্রয়ারে পেঁচার রক্ত ছড়িয়ে দিলেন। এই পেঁচাটিকে ব্ল্যাক-ম্যাজিক প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়েছিল। আর এটি করে সেসময়ের একজন স্থানীয় জাদুকর। এই জাদুকর বলে, ‘জ্যাকবের পরবর্তী প্রজন্মের যে বা যারা সিন্দুকের সংস্পর্শে আসবে তারা সবাই মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করবে।“

জ্যাকব তার যে অনাগত সন্তানের জন্য সিন্দুক বানিয়েছিলেন, সেই শিশুটি তার জন্মের পর পরই মারা যায়। শিশুটি যে ঘরে ছিল সিন্দুকটিও সেখানেই রাখা হয়েছিল। এরপর সিন্দুক নিয়ে যান জ্যাকবের ভাই। এই ব্যক্তিও তারই এক গৃহকর্মীর ছুরিকাঘাতে মারা যায়। জ্যাকবের আরেক ছেলে জন ও তার স্ত্রী এলি এই সিন্দুক নিজেদের দখলে নেয়। জন উত্তরাধিকারসূত্রে প্রচুর বাগানের মালিক হয়েছিল। জ্যাকবের এক মেয়ে মেলিন্ডা একজন আইরিশ ব্যক্তি সিনের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে থাকার কোন জায়গা না পেয়ে মেলিন্ডা ও সিন এসে জনের সাহায্য প্রার্থনা করে। জন সেসময় আর্থিকভাবে বেশ ধনী হয়ে উঠছিল সে তার বেশ কিছু খামার থেকে একটি মেলিন্ডা ও তার স্বামী সিনকে দিয়ে দেয়। সিনের ছন্নছাড়া স্বভাবের কারণে কিছুদিনের মাঝেই স্ত্রী মেলিন্ডার সাথে তার দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়।

জনের স্ত্রী এলি চিন্তা করলো, এই দম্পতিকে তার শ্বশুর জ্যাকবের সিন্দুক উপহার দেয়া যাক। এটা এতদিন এলির কাছেই ছিল কিন্তু অশুভ কিছু হয়নি। এলি এসব নিয়ে মাথাও ঘামাতো না। যাই হোক, কাউকে না বলে একদিন সিন মেলিন্ডার কাছ থেকে পালিয়ে যায়। মেলিন্ডা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। মাত্র ৩০ বছর বয়সে মেলিন্ডার চুল ধূসর-বর্ণ ধারণ করে, সে মারা যায়। মেলিন্ডা মারা যাবার কিছু পরেই তার স্বামী একটি বাষ্পচালিত নৌকার সাথে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পায় ও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। মেলিন্ডা ও সিনের অনাথ মেয়ে এভেলিনকে জন নিজের কাছে নিয়ে এসে বড় করে তুলে। এভেলিন ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠে, মেয়েটি খুব বুদ্ধিমান ছিল। এভেলিন বড় হয়ে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেয়।

এলি এবার সিন্দুকটি এভেলিনের বিয়েতে উপহার হিসেবে প্রদান করে। এভেলিনের বাড়িতে সিন্দুক থাকাকালীন সময়ে কিছুই ঘটে নি। এভেলিন ও তার স্বামী ম্যালকম জনসনের নিজেদের সন্তানের সাথে সাথে একটি দত্তক মেয়েও ছিল, যার নাম আরাবেলা। আরাবেলার যখন বিয়ে হলো, তখন তার মা এভেলিন মেয়ের বিয়ের পোশাক সেই সিন্দুকে করেই পাঠিয়েছিলেন। একদিন হঠাৎ করেই আরাবেলার স্বামী মারা গেল। আরাবেলা তার শিশু সন্তানের পোশাক রেখেছিল সিন্দুকে, শিশুটিও মারা যায়। এভেলিনের বড় ছেলের বৌ একই সিন্দুকে তার পোশাক রাখে। সে মারা যায়।

এরপর সিন্দুকটি যিনিই ব্যবহার করেছে, করুণ পরিণতির শিকার হয়েছে। এভেলিনের নাতনি ক্যারি হাডসন তার প্রথম সন্তান হারান, যখন সিন্দুকে বাচ্চাটির কাপড় রাখা হয়। তার আরেক সন্তানের কাপড় ওখানে রাখার পর, সে প্যারালাইজড হয়ে যায়। ক্যারি এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে চাচ্ছিলেন। তিনি তার এক এফ্রো-আমেরিকান বান্ধবী এনিকে ডেকে নিয়ে আসে, যে জাদুবিদ্যা জানত। সে অনেক চেষ্টা করে সিন্দুকটিকে অভিশাপমুক্ত করতে। শেষ পর্যন্ত সেও মারা যায়। ক্যারির মেয়ে ভার্জিনিয়া সি মেইনি সিন্দুকটি কেন্টাকির একটি যাদুঘরে দিয়ে দেয়। সতেরোটি প্রাণ সংহার করার পর এর অশুভ যাত্রা সমাপ্ত হয়।

বর্তমানে এটি কেন্টাকি হিস্ট্রি মিউজিয়াম আছে। এর প্রথম ড্রয়ারটি বন্ধ করা। কেউ অভিশাপ বিশ্বাস করুক আর না করুক। যদি কিছু হয়ে যায়? বলাই বাহুল্য, এসবের সঠিক কোন ব্যাখ্যা আজতক বিজ্ঞান দিতে পারেনি।

Leave a Reply

Subscribe to Posts | Subscribe to Comments

- Copyright © Personal Blog - Tips Guru - Powered by Md Joy - Designed by Md Joy Chowdhury -